এপ্রিল-জুন

ইউরো অঞ্চলে দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) অতি অল্প প্রবৃদ্ধির দেখা পেয়েছে ইউরোজোনের অর্থনীতি।

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) অতি অল্প প্রবৃদ্ধির দেখা পেয়েছে ইউরোজোনের অর্থনীতি। কারণ হিসেবে প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সামনে আনা হচ্ছে।

এপির প্রতিবেদন অনুসারে, প্রথম প্রান্তিকে মার্কিন শুল্ক আরোপের আগে দেশটিতে ইউরোপ থেকে পণ্য রফতানির হিড়িক পড়ে যায়, যার উল্টো প্রভাব পড়ে দ্বিতীয় প্রান্তিকে। বিশেষ করে ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি জার্মানিতে উৎপাদন ব্যাপক মাত্রায় কমে গেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাট গতকাল জানিয়েছে, ইউরো ব্যবহারকারী ২০টি দেশের সম্মিলিত জিডিপি আগের প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) তুলনায় মাত্র দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। তবে ২০২৪ সালের একই প্রান্তিকের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইইউ অঞ্চলের অর্থনীতিতে আগামী মাসগুলোয় প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা খুব একটা ইতিবাচক নয়। কারণ গত রোববার ঘোষিত ইইউ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি অনুযায়ী, ইউরোপীয় পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ উচ্চ শুল্ক ইউরোপ থেকে রফতানি পণ্যের খরচ বাড়িয়ে দেবে। এ শুল্কের একটি অংশ মার্কিন ভোক্তার ঘাড়ে চাপতে পারে। নয়তো মুনাফা কমিয়ে বাড়তি খরচ বহন করবে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ইইউতে দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও তা ছিল প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুল্কের আশঙ্কায় অনেক কোম্পানি দ্বিতীয় প্রান্তিকের পণ্য আগেভাগেই রফতানি করায় প্রথম প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে দেয়।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে জার্মানি ও ইতালিতে উৎপাদন কমেছে দশমিক ১ শতাংশ। ফ্রান্সে দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও তা মূলত গাড়ি ও উড়োজাহাজ শিল্পে মজুদ বাড়ার কারণে; যদিও স্থানীয় চাহিদা ছিল স্থবির। ইউরোজোনের বড় চার অর্থনীতির মধ্যে শুধু স্পেনই তুলনামূলকভাবে ভালো করেছে। দেশটির প্রবৃদ্ধির হার ছিল দশমিক ৭ শতাংশ।

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের ইউরোপ বিষয়ক জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ফ্রানজিস্কা পালমাস বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সর্বজনীন ১৫ শতাংশ শুল্ক ইউরোপীয় জিডিপি থেকে প্রায় দশমিক ২ শতাংশ কেড়ে নিতে পারে। ফলে বছরের বাকি সময়েও প্রবৃদ্ধি দুর্বলই থাকবে।’

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইউরোপের বৃহৎ অর্থনীতি জার্মানি এখনো কভিড-মহামারীর আগের আকারেই রয়ে গেছে। দেশটির রফতানিনির্ভর শিল্প খাত এখন একাধিক সমস্যায় জর্জরিত। এর মধ্যে রয়েছে চীনের সঙ্গে শক্তিশালী প্রতিযোগিতা, দক্ষ কর্মীর ঘাটতি, উচ্চ জ্বালানি মূল্য, অবকাঠামো বিনিয়োগে পিছিয়ে থাকা, কঠোর নিয়মনীতি ও প্রশাসনিক জটিলতা।

অর্থনীতিবিদ ফ্রানজিস্কা পালমাস বলেন, ‘মার্কিন শুল্কের কারণে অন্যান্য বড় অর্থনীতির তুলনায় জার্মানি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বছরের বাকি সময়ও প্রবৃদ্ধির জন্য দেশটি লড়ে যাবে।’

তবে ২০২৬ সাল থেকে জার্মানির নতুন চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশটিতে অবকাঠামো ঘাটতি পূরণে ব্যয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা দেশটির অর্থনীতিকে কিছুটা গতি দিতে পারে।

আরও